কাপ্তাইয়ে ৪১ বিজিবি: সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা হবে কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য বিজিবি সহায়ক শক্তি হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস।
ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক বলেন, একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে বিজিবি নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে বিজিবি মাঠে থাকবে। কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ৩টি সংসদীয় আসনের ৮টি উপজেলার মোট ২৬৭টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বিজিবি।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি জানান, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই, কাউখালী, রাজস্থলী, জুরাছড়ি এবং বিলাইছড়ি উপজেলার ৮০টি কেন্দ্রে বিজিবি সদস্যরা সরাসরি মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের ১৮৭টি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় বেইজ ক্যাম্প স্থাপনসহ নিবিড় নজরদারি চালানো হবে। বিশেষ করে রাঙ্গামাটির দুর্গম এলাকার ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য ৭টি বিশেষ বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন বিশেষ ব্যবস্থা সম্পর্কে লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী আরও জানান, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে নিয়মিত নির্বাচনী মহড়া ও আধুনিক সরঞ্জামাদির মাধ্যমে সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক আকাশপথের নজরদারি (সার্ভেল্যান্স) চালানো হবে। নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো কুচক্রী মহল যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র পাচার, মাদক এবং সকল ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়াগ্গা ৪১ বিজিবির ক্যাপ্টেন আশরাফুল ইসলামসহ বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?
রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ