আত্রাইয়ে ১৯ মাস পর সুমন হত্যার রহস্য উদঘাটন: ডোবা থেকে কঙ্কাল উদ্ধার

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
Jan 23, 2026 - 21:18
আত্রাইয়ে ১৯ মাস পর সুমন হত্যার রহস্য উদঘাটন: ডোবা থেকে কঙ্কাল উদ্ধার

নওগাঁর আত্রাইয়ে চাঞ্চল্যকর সুমন হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৯ মাস পর অবশেষে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি শফিউল ইসলামকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ডোবা থেকে নিহত সুমনের হাড়গোড় ও কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কয়সা গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে সুমন (৩৯) গত ২০২৪ সালের ২০ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে ২২ জুন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৯১১) করা হয়। পরবর্তীতে বাড়ির পাশের একটি ইটের টুকরোয় রক্তের দাগ দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে পুলিশ সেটি জব্দ করে ডিএনএ পরীক্ষা করায়, যা সুমনের রক্তের সাথে মিলে যায়। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে নিহতের স্ত্রী বুলি বিবি বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আত্রাই থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-১৪৩/৩২৬/৩০৭/৩৬৪/৩৪) দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্তে ধীরগতি লক্ষ্য করা গেলে, সপ্তাহখানেক আগে নিহতের পরিবার নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং মামলার ডকেট পর্যালোচনা করেন। তিনি মামলাটি নতুন উদ্যমে তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম), আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ এবং তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তফাকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।

পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় তদন্ত কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের শফিউলকে আটক করেন। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শফিউল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

স্বীকারোক্তিতে শফিউল জানান, নিহত সুমন তার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন। এর জের ধরে ২০২৪ সালের ২৪ জুন রাতে শফিউল ও তার ছোট ভাই সায়েম (২০) কৌশলে সুমনকে ঘর থেকে ডেকে বাড়ির পাশের নির্জন রাস্তায় নিয়ে যান। সেখানে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুই ভাই মিলে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি নিচু জায়গায় মাটিচাপা দেন। উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী ও শফিউলের ছোট ভাই সায়েম কয়েক মাস আগেই আত্মহত্যা করেছেন।

আসামি শফিউলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে কয়সা গ্রামের রমজান আলীর পুকুর-সংলগ্ন ডোবা সেচে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে হতভাগ্য সুমনের হাড়গোড় ও বিচ্ছিন্ন কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "নওগাঁ জেলা পুলিশ জেলার যে কোনো অপরাধ উদঘাটন এবং দমনে ধৃড় প্রতিজ্ঞ। দীর্ঘদিনের পুরনো এই মামলার রহস্য উদঘাটন পুলিশের সেই প্রচেষ্টারই ফসল।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow