১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর গ্রামে শামা ওবায়েদ: একটা দোকানও খোলা নাই এটা কোন মানবতা না

জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Feb 3, 2026 - 18:25
Feb 3, 2026 - 18:25
১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর গ্রামে শামা ওবায়েদ: একটা দোকানও খোলা নাই এটা কোন মানবতা না

ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, এটা কেমন মেহমানদারী যে, আমরা এসেছি বাহিরদিয়াতে (১১ দলীয় প্রার্থীর গ্রাম) আর এখানে বাজারে একটা দোকানও খোলা নাই। আজকে এখানে এতো মুরব্বীরা বসে আছে। অনেকের ডায়াবেটিস আছে, হার্টের রোগী আছে, অনেকের বিভিন্ন রোগের সমস্যা, লিভার, কিডনির সমস্যা। কারো যদি পানির দরকার হয়, কারো যদি একটা ঔষধের দরকার হয়, একটা ঔষধের দোকান খোলা নাই ইসলামে কি বলে এই কাজ করার। এটা কোন মানবতা না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া বাজারে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত ধানের শীষের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা ইসলাম ধারণ করি, পালন করি মনে। মাথা থেকে পা পর্যন্ত আমাদের ইসলাম। আমরা ইসলাম বিক্রি করে খাই না। ইসলামের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে মানবতার শিক্ষা। মানুষের পাশে থাকতে হবে, সেবা করতে হবে। মানুষের ক্ষতি করা যাবে না। মানুষকে অপমান, অত্যাচার, অনাচার করা যাবে না। যেটা আমার বাবা (বিএনপির সাবেক মহাসচিব) করে নাই। উনার সন্তান হিসাবে আমি কথা দিতে পারি আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। আমার একটাই চাওয়া আপনারা ভালো থাকেন।

তিনি বলেন, সালথা নগরকান্দায় এমন কোন মাদ্রাসা মসজিদ নাই যে, আমার বাবা তাদের উন্নয়নে কাজ করেন নাই। প্রত্যেকটা আলেম ওলামাদের আমার বাবা মাথায় করে রাখতেন। আমি ছোট বেলা থেকে দেখে এসেছি আলেম ওলামা মাশায়েকরা তার কাছে গেলে উনি পকেটে যা ছিল তার চেয়ে দ্বিগুন তিনগুন দিয়েছেন। এখানে আমার আমার জন্ম হয়েছে। সারাজীবন আপনাদের পাশে থাকবো। আমার পবিত্র দায়িত্ব আপনাদের পাশে থাকার আপনাদের জন্য কাজ করার।

এসময় তিনি নগরকান্দায় মামুনুল হকের সমাবেশকে উদ্দশ্যে করে বলেন,আজকে এম.এন একাডেমীর মাঠে সম্মানিত যে সম্মানিত প্রার্থীর (১১ দলীয় জোটের প্রার্থী) একটা সমাবেশ হচ্ছে। সেই সমাবেশ হওয়ার আগে নির্বাচন কমিশনের কিছু নিয়ম কানুন আছে। এমএন একাডেমী একটা সরকারি মাঠ, সরকারি স্কুল যেখানে নির্বাচন কমিশন পারমিশন দেয় না। আবার আমাদের ওলামাদলের একটা কর্মসূচি ছিল ওখানে আমাদেরকে পারমিশন দেয় নাই। উনাদেরকেও পারমিশন দেয় নাই। সেজন্য উনারা নগরকান্দা কলেজ মাঠে চলে গিয়েছিল।

তিন বলেন, নগরকান্দা সালথার মাটিতে দ্বিন ইসলাম ও শরীয়া মোতাবেক চলবে ইনশাল্লাহ। আমরা যারা মুসলমান, আমার যারা সৎ পথে চলি ন্যায়ের পথে চলি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করি না।

নারীদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, আমার মা বোনেদের কথা দিতে পারি আমাকে আপনারা যদি একটা ভোট দেন, আপানাদের এই বোন আমৃত আপনাদের জন্য থাকবে, কাজ করবে। আমার কোন স্বার্থ নাই। আমার আব্বা স্বার্থ ছাড়াই সবাইকে বুকে টেনে নিয়েছেন। আওয়ামীলীগ করেন, বিএনপি করেন, জামায়াত করেন যেই দল তার কাছে গেছেন সে তার জন্য করেছে। ইনশাল্লাহ আমি সেই আদর্শ নীতি নিয়ে বড় হয়েছি। 

সেই ধানের শীষের ভোট হচ্ছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভোট। সুতরাং এই ধানের শীষের ভোটকে আমরা নষ্ট হতে দিবো না। আমরা সবাইকে শ্রদ্ধা করি, সবাইকে মাথার উপরে রাখবো, সবাইকে সম্মান করবো। আমরা সবচেয়ে আগে চাই আমাদের যে নতুন প্রজন্ম আছে তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জল করতে হলে তাদেরকে শিক্ষা দিতে হলে, তাদেরকে চাকুরী দিতে হলে, কর্মসংস্থান দিতে হলে একমাত্র জবাব হচ্ছে ধানের শীষ।

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বরের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খন্দকার ফজলুর হক টুলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান মোল্যা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, প্রচার সম্পাদক মো. নাসির মাতুব্বর, বিএনপি নেতা ইনামুল হোসেন এনামুল হোসেন তারা মিয়া, আব্দুর রব, কামরুজ্জামান আলী, ওলামা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মাসুম বিল্লাহ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কামরুল ইসলাম, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, হাসান আশরাফ, এনায়েত হোসেন, মিরান হুসাইন, ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম রাজ প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow