বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে
তামিম ইকবালকে সভাপতি করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক গঠিত এই কমিটিতে সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রীর ছেলে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী রাশনা ইমামের জায়গা পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে কমিটির সদস্যদের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
বিসিবির এই নতুন কমিটিতে নারী বিভাগ এবং মেডিকেল ও কমপ্লেইন কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি পেশায় একজন নামকরা আইন বিশেষজ্ঞ হওয়া সত্ত্বেও তার এই নিয়োগকে ‘স্ত্রী কোটা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি মনে করেন, রাশনা ইমামের মতো একজন মেধাবী আইনজীবীকে কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ে বোর্ডে রাখা তার জন্য অবমাননাকর। তুষার তাকে এই পদ থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ক্রিকেটের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে কেবল নারী ও পারিবারিক কোটা পূরণে ব্যবহার করা হয়েছে, যা তার যোগ্যতার সাথে মানানসই নয়।
এদিকে, বিসিবির এই নতুন কমিটিকে কেন্দ্র করে গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনেও হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান কমিটিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে অভিহিত করেন। তার এই মন্তব্যের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও মুচকি হাসতে দেখা যায়। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্রিকেট বোর্ডে কোনো পারিবারিক কোটা রাখা হয়নি, তবে সংসদ সদস্যের কল্যাণে আজ ক্রিকেটে ‘বাপের দোয়া’র মতো নতুন পরিভাষা যুক্ত হলো।
বিতর্কের মাঝেই গতকাল বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল বোর্ড সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছেন। তামিম নিজে ওয়ার্কিং কমিটি ও ফেসিলিটিজের দায়িত্ব নিয়েছেন। গেম ডেভেলপমেন্ট ও বিপিএল কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন ফাহিম সিনহা। অন্যান্যদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম বাবু গ্রাউন্ডস, তানজিল চৌধুরী এইজ গ্রুপ, সালমান ইস্পাহানী মার্কেটিং ও ডিসিপ্লিন, ইসরাফিল খসরু ফিন্যান্স, সায়েদ ইব্রাহিম আহমেদ সিকিউরিটি, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু টুর্নামেন্ট কমিটি, মির্জা ইয়াসির লজিস্টিকস এবং সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খান আম্পায়ার কমিটির দায়িত্ব সামলাবেন।
রাজনৈতিক প্রভাবে গঠিত এই কমিটি দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে সংশয় ও কৌতূহল—উভয়ই বিরাজ করছে। কমিটির সদস্যরা তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এই সমালোচনার জবাব দিতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ