নগরকান্দায় ইউএনও দবির উদ্দিনের উদ্যোগে কুমার নদ দূষণমুক্ত

শফিকুল ইসলাম জনি, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
Aug 30, 2025 - 16:06
 0  144
নগরকান্দায় ইউএনও দবির উদ্দিনের উদ্যোগে কুমার নদ দূষণমুক্ত

একসময় কচুরিপানা, আবর্জনা আর দখলের ভারে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল ফরিদপুরের নগরকান্দার ঐতিহ্যবাহী কুমার নদ। সেই বদ্ধ জলাশয়ে এখন বইছে স্বচ্ছ পানির স্রোত, ফিরে এসেছে প্রাণের স্পন্দন। এই অসাধ্য সাধনের নেপথ্যে রয়েছেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, যার দৃঢ় সংকল্প ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে কুমার নদ ফিরে পেয়েছে তার হারানো যৌবন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের আস্থা অর্জনকারী এই কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় হাতে নেন কুমার নদ পুনরুদ্ধার প্রকল্প। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কেবল নদীর কচুরিপানাই পরিষ্কার হয়নি, উচ্ছেদ করা হয়েছে নদকে দূষিত করা একাধিক সেপটিক ট্যাংকও। তার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে বদলে গেছে নগরকান্দার সামগ্রিক চিত্র।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কুমার নদকে বাঁচানোর। ইউএনও দবির উদ্দিন সেই দাবিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। প্রথম ধাপে তিনি নদ থেকে কচুরিপানা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনেন। দ্বিতীয় ধাপে, নদকে স্থায়ীভাবে দূষণমুক্ত করতে তিনি নদীর ভেতরে স্থাপিত বিভিন্ন অবৈধ সেপটিক ট্যাংক অপসারণের মতো সাহসী অভিযান পরিচালনা করেন এবং সফল হন।

কুমার নদ বাঁচানোর পাশাপাশি ইউএনও দবির উদ্দিন মাটি ও বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, চায়না দোয়ারী জালের ব্যবহার রোধ এবং ভর্তুকি মূল্যে চাল বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। হাসিমুখে সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করায় তিনি দ্রুতই 'জনগণের কর্মকর্তা' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “কুমার নদ দূষণমুক্ত করতে নগরকান্দার সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো আমাকে যেভাবে সহায়তা করেছে, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। সকলের সহযোগিতা পেলে নগরকান্দাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “প্রতিটি উপজেলায় অন্তত একটি নদীকে দূষণমুক্ত করার যে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি, নগরকান্দার ইউএনও তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। তিনি প্রশংসার দাবিদার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow