আগৈলঝাড়ায় সরকারি খাল খননে অনিয়ম, চাপে নীরব কৃষকরা
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে খাল খননকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষকের ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) চার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিলেও কাজ চলছে দুর্নীতির ছায়ায়। ফলে প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, খননকাজে মান রক্ষা করা হচ্ছে না। খালের নির্ধারিত গভীরতা বজায় রাখা হচ্ছে না এবং অনেক অংশে খাল কাটা তো দূরের কথা, মাটি ছেঁচে পরিষ্কার করেই দায় সারা হচ্ছে। এতে করে ভবিষ্যতে সেচ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের গুপ্তেরহাট-কুমারভাঙ্গা হয়ে রাজিহার পর্যন্ত এই খাল খননের দায়িত্ব পেয়েছে ফরিদপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরএন ইন্টারন্যাশনাল’। চার কিলোমিটার কাজের জন্য মোট ৪১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার বরাদ্দ থাকলেও, একাধিক কৃষক অভিযোগ করেছেন যে, কাজের গুণগত মান একেবারেই নিম্নমানের।
স্থানীয় কৃষক মামুন আকন ও ফিরোজ ব্যাপারী বলেন, "শুধু খালের এক পাশ ছেঁচে কিছু মাটি উঠানো হচ্ছে। খনন না করায় বর্ষার আগেই আবার মাটি ভেঙে খাল ভরাট হয়ে যাবে। এতে কৃষকদের কোনও উপকার হবে না।"
তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত থাকায়, কৃষকরা সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে তথ্য জানতে বিএডিসি’র গৌরনদী কার্যালয়ে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী শাহেদ আহমেদ চৌধুরী তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন।
অভিযোগের ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আরএন ইন্টারন্যাশনাল’-এর মালিক মুন্নু মোল্লা বলেন, “কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠায় আমি নিজে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে।”
তবে ভিন্নমত প্রকাশ করেন বিএডিসি বরিশাল জোনের সহকারী প্রকৌশলী (নির্মাণ) এসএম আতাই রাব্বি। তিনি বলেন, “আমি সরেজমিনে গিয়ে খাল খনন দেখেছি। নির্ধারিত অংশ পর্যন্ত কাজ নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে। পরবর্তী অংশ বড় খননযন্ত্র দিয়ে করতে হবে।”
অন্যদিকে কৃষকদের দাবি, এভাবে কাজ চললে প্রকল্পের লক্ষ্য ব্যর্থ হবে এবং সরকারি অর্থ অপচয়ই হবে শুধুমাত্র।
What's Your Reaction?
মো: মনিরুজ্জামান আগৈলঝাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি