ফলাফলে কারচুপি ও বৈষম্যমূলক মন্ত্রিসভার অভিযোগ নাহিদ ইসলামের
হাজারো শহীদের রক্তস্নাত ত্যাগের পর অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল ঘোষণায় কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে নবগঠিত মন্ত্রিসভাকে জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী এবং ‘পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, "দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে শপথ গ্রহণ করেছি। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, যারা সরকার গঠন করবেন তারা রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করবেন। কিন্তু বর্তমান মন্ত্রিসভার গঠন দেখে আমরা হতাশ। এটি কোনোভাবেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এই মন্ত্রিসভায় সকল জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয় ঘটানো হয়নি এবং এটি যথাযথ প্রতিনিধিত্বমূলক হয়ে ওঠেনি।"
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র ভূমিকার সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সংস্কার প্রক্রিয়ার সাথে প্রতারণা করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ গ্রহণ না করে জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। গণভোটে যে গণরায় এসেছে, তা বাস্তবায়ন না করা রাজনৈতিক অসততা।
দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি বিএনপি নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। নাহিদ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, যা ইতিবাচক। কিন্তু দুর্নীতি দমন নিজের ঘর থেকেই শুরু করতে হয়। আমরা জানতে চাই, বিএনপির সংসদ সদস্যরা ব্যাংক থেকে নেওয়া তাদের বিপুল পরিমাণ ঋণ কবে পরিশোধ করবেন? দেশের মানুষ আজ সেই হিসাব জানতে চায়।"
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংসদীয় কার্যক্রমে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ