এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসা বিএনপির হাত ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে গুণগত পরিবর্তনের হাওয়া। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেকে তুলে ধরছেন এক দূরদর্শী ও উদারমনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। আওয়ামী লীগ শাসনামলের দীর্ঘ নিপীড়ন ও প্রতিহিংসার বৃত্ত ভেঙে তিনি এক নতুন ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ সূচনা করেছেন, যা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তার রাজনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক। প্রতিহিংসা নয়, বরং শান্তি, ঐক্য ও সহনশীলতাই হবে নতুন সরকারের ভিত্তি। বিশেষ করে দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। তবে ক্ষমতায় বসার আগেই তিনি স্থাপন করেছেন ত্যাগের এক বিরল দৃষ্টান্ত। শপথ নেওয়ার আগেই তিনি ঘোষণা করেন, সরকারি সুবিধা হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট তিনি নেবেন না। গত মঙ্গলবার সংসদীয় দলের বৈঠকে তার এই সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর চাপ কমানোর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিনের কর্মকাণ্ডেই তিনি প্রথাগত ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়েছেন। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—কোনোভাবেই যেন স্বজনপ্রীতি বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার না করা হয়। বিশেষ করে আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত ব্যবস্থা। তারেক রহমান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি কোনো বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজের ব্যক্তিগত সাদা রঙের টয়োটা গাড়ি, নিজস্ব চালক এবং নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে দাপ্তরিক কাজ সারছেন। এমনকি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে তিনি তার নিরাপত্তাবহরের গাড়ির সংখ্যা ১৪টি থেকে কমিয়ে মাত্র ৪টিতে নামিয়ে এনেছেন। রাস্তার দুধারে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে জনজীবন অতিষ্ঠ করার যে দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি ছিল, তাও বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ও তাকে সাধারণ প্রটোকল মেনেই যাতায়াত করতে দেখা গেছে। যানজট এড়াতে তিনি এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তারেক রহমানের এই জনবান্ধব পদক্ষেপগুলোকে তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মাদ মাহবুবুর রহমান বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর থেকেই প্রতিটি পদক্ষেপে নতুনত্ব দেখাচ্ছেন। শুল্কমুক্ত গাড়ি না নেওয়া বা নিজের গাড়িতে যাতায়াত করা—এই ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী কোনো 'রাজা' নন, বরং তিনি জনগণের একজন সেবক। এই ইতিবাচক ধারার জন্যই এদেশের মানুষ দীর্ঘকাল অপেক্ষা করছিল।"
নতুন সরকারের এই পথচলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে এক ‘নতুন বার্তা’ পৌঁছে দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের রাজনীতি দেশকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করবে।
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
বান্দরবান | ২৮ জুন, ২০২৫
মাদারীপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
বরিশাল | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
বরিশাল | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।