দায় এড়াতে মধ্যরাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি - বদিউল আলম মজুমদার

অনলাইন ডেস্কঃ
Feb 19, 2026 - 19:28
Feb 19, 2026 - 19:28
দায় এড়াতে মধ্যরাতে তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি - বদিউল আলম মজুমদার
ছবি: ফোকাস বাংলা

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের দায় এড়াতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট মধ্যরাতে তড়িঘড়ি করে জারি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে সুজন আয়োজিত ‘নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণের হলফনামার তথ্যের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সম্পদ, ঋণ, শিক্ষা এবং ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে মধ্যরাতে গেজেট প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে তারা মূলত নিজেদের দায়বদ্ধতা থেকে বাঁচতে চেয়েছে। আমরা সংস্কার কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করেছিলাম যাতে নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইসি পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সার্টিফাই করে, কিন্তু আরপিওতে সেই সুপারিশ রাখা হয়নি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই নির্বাচনে লড়ার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন না দেওয়ার সুপারিশ থাকলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি, ফলে অনেক ঋণখেলাপি আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। তথ্যে দেখা গেছে, ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৪৭ জনই (৪৯.৪৯ শতাংশ) ব্যাংক ঋণগ্রহীতা। এর মধ্যে ৩৬ জনের ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি টাকার বেশি। রাজনৈতিক দল হিসেবে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৬ জন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবার ঋণগ্রহীতা সংসদ সদস্যের হার বেড়েছে।

দিলীপ কুমার সরকার জানান, সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৯০.২৪ শতাংশ আয়কর প্রদানের তথ্য দিয়েছেন। তবে ২৪ জন সংসদ সদস্য কোনো আয়কর বিবরণী জমা না দিয়ে কেবল প্রত্যয়নপত্র বা এনআইডির কপি দিয়েছেন, যা আরপিও অনুযায়ী তথ্যের অসম্পূর্ণতা। ড. মজুমদার বলেন, “আয়কর বিবরণী জমা না দেওয়া মানেই তথ্য গোপন করা। আমরা আশা করি কমিশন এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।”

সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ এবং একরাম হোসেন সংবাদ সম্মেলনে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এবারের সংসদেও বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী নির্বাচিত হয়েছেন। ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং জনস্বার্থের মধ্যে তারা কতটা ভারসাম্য রাখতে পারবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে নারী প্রতিনিধিত্বের অভাব। দেশের অর্ধেক ভোটার নারী হলেও সরাসরি নির্বাচনে মাত্র ৭ জন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, ভবিষ্যতে একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে আরপিও’র সংস্কার এবং প্রার্থীদের হলফনামার তথ্যের কঠোর যাচাই-বাছাই হওয়া জরুরি।


What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow