সালথায় নৈশপ্রহরীর আত্মহত্যা, থানায় অভিযোগ
ফরিদপুরের সালথায় ওহিদুল ইসলাম (৩০) নামক নৈশপ্রহরীর আত্মহত্যার ঘটনায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নিহত ওহিদুল ইসলামের ভাই মো. ইসলাম শেখ বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।
এর আগে শুক্রবার বিষপান করার পরের দিন শনিবার বিকেলে ওহিদুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া বাজারের নৈশ পাহারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন ওহিদুল ইসলাম। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে বাজারে দায়িত্ব পালনকালে দেলো মল্লিকের ভ্যান গ্যারেজে চুরির ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাজারে সালিশ ডাকা হয়। সালিশের আগেই আবু মাতুব্বর (মেম্বার), হাবি মোল্যা, গিয়াস উদ্দিন মাতুব্বর, হাফেজ মাতুব্বর, ছিদ্দিক মাতুব্বর, মকিত মাতুব্বর, তুহিন মাতুব্বর, আজগর মোল্যা, দেলো মল্লিক ও হাবিবুর রহমান লাভলু নিহত ওহিদুল ইসলামের ওপর চুরির ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে বড়দিয়া বাজারে আবু মাতুব্বরের কীটনাশক ও সারের দোকানে সালিশ বসে। সেখানে অভিযুক্তরা ওহিদুল ইসলামকে চুরির দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেন এবং টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সালিশ চলাকালীন সময়েই তিনি দোকানে থাকা কীটনাশক পান করেন।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই ইসলাম শেখ অভিযোগে উল্লেখ করেন, মিথ্যা অপবাদ, জোরপূর্বক ক্ষতিপূরণের চাপ ও ভয়ভীতির কারণেই তার ভাই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ