আখেরী মোনাজাতে শেষ হলো নাসিরনগর দরবার শরীফের বার্ষিক ইছালে ছওয়াব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের পীরে কামেল মোকাম্মল হযরত শাহ সূফী সৈয়দ আবদুস ছাত্তার নকশা বন্দী (রঃ) ও পীরে কামেল মোকাম্মেল হযরত শাহ সূফী সৈয়দ নাছিরুল হক (মাসুম) নকশা বন্দী মোজাদ্দেদী ফান্দাউকী (রঃ) দ্বয়ের বার্ষিক ইছালে ছওয়াব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ফান্দাউকের সভা লাখো মানুষের কান্নায় আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
রোববার ফজর নামাজের পর আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন ফান্দাউক দরবার শরীফের গদ্দীনিশীন মাওলানা সৈয়দ ছালেহ আহমদ মামুন আল হোসাইন। আখেরী মোনাজাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ঈমান-ইসলাম রক্ষায় এবং মুসলিম উম্মার ঐক্য কামনা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করা হয়।
এর আগে শুক্রবার বাদ জুমা পবিত্র ফাতেহা শরীফ পাঠ করার মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম শুরু হয়।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ফান্দাউক দরবার শরীফের গদ্দীনিশীন মাওলানা মুফতি সৈয়দ ছালেহ আহমদ মামুন আল হোসাইনী। দুইদিন ব্যাপী মাহফিলের তত্ত্ববধানে ছিলেন দরবার শরীফের পীরজাদা মাওলানা মুফতি সৈয়দ মঈনুদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী, পীরজাদা মাওলানা সৈয়দ আবুবক্কর সিদ্দিকী আল-হোসাইনী, পীরজাদা মাওলানা সৈয়দ বাকের মোস্তফা আল-হোসাইনী।
মাওলানা সৈয়দ আশরাফ শামীম আল-হোসাইনীর সঞ্চালনায় দুইদিন ব্যাপী মাহফিলে কোরআন ও হাদিস থেকে শান্তির ধর্ম ইসলাম সর্ম্পকে এবং সঠিক জীবন বিধান নিয়ে বক্তব্য রাখেন হাফেজ ওয়ালী উল্লাহ আশেকী আল কাদরী ঢাকা, আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন আত্ তাহেরী, মাওলানা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী, সৈয়দ হাসান আজহারী, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ড. সরকার কাফিল উদ্দিন সালেহী, মুফতি আলাউদ্দিন জিহাদি, পীরজাদা মাওলানা সৈয়দ জাকারিয়া আহমদ আল-হোসাইনী, দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসার মুফতি মাওলানা মুফতি ওসমান গনি ছালেহী, মাওলানা হুমায়ুন কবির মাছুমীসহ দেশ বরেণ্য উলামায়ে কেরাম ও পীর সাহেবগণ।
মাহফিল উপলক্ষে আশেকানদের জন্য বিশাল প্যান্ডেল করা হয়। প্যান্ডেলে (খেড়) বিছিয়ে হাজার হাজার ভক্ত মুরিদান বসে বয়ান শুনেন। তাদের সুবিধার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, আশুগঞ্জ, নাসিরনগরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ১০ হাজার লোক এক সাথে বসে খিচুরী খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বার্ষিক ইছালে ছওয়াবকে ঘিরে অস্থায়ী ভিত্তিতে ছোট বড় কয়েক‘শ দোকান গড়ে উঠে। দূরের আশেকানদের থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। উল্লেখ্য, মাহফিলে দরবার শরীফের আওতায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ফান্দাউক মদিনাতুল উলুম মাদরাসার হাফেজ ছাত্রদেরকে পাগড়ী প্রদান করা হয়।
What's Your Reaction?
জায়শা জাহান মিমি, স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ