বিলকিসের হাতের পিঠাই সংসারের ভরসা: জমে উঠেছে চরভদ্রাসনের শীতের বাজার
কুয়াশাঘেরা শীতের বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই ফরিদপুরের চরভদ্রাসন সদর বাজার এলাকা ভোজনরসিকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে ওঠে। উপজেলা পরিষদ মার্কেট চত্বর তখন ভরে ওঠে পিঠার ধোঁয়া ওঠা গন্ধে। এই ভিড়ের মধ্যেই আলাদাভাবে নজর কাড়ছেন তরুণী পিঠা বিক্রেতা বিলকিস আক্তার (২৫)। নিজের শ্রম আর স্বামীর সহযোগিতায় পিঠা বিক্রি করেই সংসারে স্বচ্ছলতা এনেছেন তিনি।
প্রতিদিন বিকেলে চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ প্রচেষ্টায় বসে পিঠার এই জমজমাট আসর। বিলকিসের নিপুণ হাতে তৈরি গরম গরম চিতই ও ভাপা পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন নানা বয়সের মানুষ। শুধু পিঠাই নয়, এর সঙ্গে পরিবেশন করা হয় সরিষা বাটা, ধনিয়া পাতা বাটা, শুঁটকির ভর্তাসহ জিভে জল আনা হরেক রকমের মুখরোচক সব ভর্তা।
পিঠা বিক্রির আয় দিয়েই এখন স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে বিলকিসের সংসার। তিনি জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকার পিঠা বিক্রি হয়। এই আয়ে তিনি বেশ সন্তুষ্ট।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে বিলকিস আক্তার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, প্রতিদিন ভালোই বেচাকেনা হয়। পিঠা বিক্রিতে লাভও ভালো। তবে রাস্তার পাশে না থেকে যদি একটা স্থায়ী দোকান বরাদ্দ পাই, তাহলে সারা বছরই এই পিঠার ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাই।”
স্থানীয় ভোজনরসিক সাজু মৃধার মতে, “ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি পিঠা ও ভর্তার টানেই মানুষ এখানে ভিড় জমায়। এখানকার পিঠার স্বাদ বাড়ির তৈরির মতোই।”
সরেজমিনে দেখা যায়, শুধু বিলকিস আক্তারই নন, শীতকে কেন্দ্র করে সদর বাজার এলাকায় এমন আরও কয়েকটি পিঠার দোকান গড়ে উঠেছে। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মাঝে মাঝে ক্রেতার চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিক্রেতাদের। তবে জীবনযুদ্ধে হার না মানা বিলকিস আক্তারের হাসিমুখ আর গরম পিঠার ধোঁয়া যেন শীতের সন্ধ্যায় এক অন্যরকম উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
What's Your Reaction?
আসলাম বেপারি, চরভদ্রাসন প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ