ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাহমুদুল হাসান, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধিঃ
৬ অক্টোবর, ২০২৫ ৯:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সাড়ে ১১ লাখ শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

“শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অর্থ ও লজিস্টিক) নাসিমা খাতুনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা তথ্য অফিসার দীপক চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাড়ে ১১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ৩৮ শতাংশ শিশু এখনো টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেনি। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়ে মোট ১৮ দিন চলবে। এর মধ্যে প্রথম ১০ দিন বিদ্যালয়ে এবং পরবর্তী ৮ দিন স্থানীয় পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে।

রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা উপজেলার মধ্যে আখাউড়া ও আশুগঞ্জের নাম উঠে এসেছে। আখাউড়ায় ৩৮ হাজার ২১৭ জন এবং আশুগঞ্জে ৪০ হাজার ১৯৭ জন শিশুর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, টাইফয়েড একটি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগ। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং এক লাখ ১০ হাজার মানুষ মারা যায়। বাংলাদেশে আক্রান্তের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। ২০২১ সালে দেশে প্রায় চার লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং আট হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যার মধ্যে ৬৮ শতাংশই শিশু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, “টাইফয়েডে প্রতিবছর বহু শিশু মারা যায়। এটি অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে। খাবার ঢেকে রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। সরকার বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য।”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এই টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবেন, যাতে কোনো শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত না হয়।”

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।