এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
"স্বপ্ন পোড়ালে কখনো ছাঁই হয় না... কেউ আর জানলো না সোনার চেয়ে স্বপ্ন ছিল কতটা মূল্যবান"— এই অমর পঙ্ক্তি যাঁর কলম থেকে নিঃসৃত হয়েছে, সেই স্বপ্ন ও দ্রোহের অমর কবি, মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক নজীরের ৭১তম জন্মবার্ষিকী আজ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫। সত্তর দশকের এই স্বতন্ত্র কাব্যসাহসী কণ্ঠস্বরকে তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা সাহিত্যের অগণিত পাঠক ও অনুরাগী। স্বপ্ন, সততা আর মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার একনিষ্ঠ এই পূজারী তাঁর লেখনীর মাধ্যমে যে বিদ্রোহের আগুন জ্বেলেছিলেন, তা আজও অম্লান।
১৯৫৫ সালের এই দিনে ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার শিয়ালদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাজমুল হক নজীর। কৈশোরেই যিনি দেশমাতৃকার টানে সাড়া দিয়ে একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে। যুদ্ধের সেই অভিজ্ঞতা ও চেতনা তাঁর সাহিত্য জীবনের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল। পরবর্তীকালে তাঁর কবিতায় বারবার সেই গৌরবময় দিনগুলোর প্রতিধ্বনি শোনা গেছে।
নাজমুল হক নজীরের কবিতা ছিল একাধারে ব্যক্তিগত স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি এবং বৃহত্তর পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতার শৈল্পিক উচ্চারণ। তিনি তাঁর পঙ্ক্তিমালায় জীবনের গভীরতম অনুভব, দ্রোহ এবং রোমান্টিকতাকে এক সুতোয় গেঁথেছেন। তাঁর কবিতার ভাষা ছিল মাটি ও মানুষের কাছাকাছি, যা সহজেই পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নিত। যেমনটি তিনি লিখেছেন-
"শুধু তোমাকেই দেখি স্বপ্নের পেয়ালায় মুখ / অথচ থালার মতো আকাশটাই / তাকিয়ে আছে আজ পৃথিবীর দুধভাতে।"
এই চরণগুলোতে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বৈশ্বিক বাস্তবতা একাকার হয়ে গেছে। সমাজের নানা অবক্ষয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের এক শাণিত হাতিয়ার। একারণেই তিনি অর্জন করেছিলেন ‘স্লোগানের কবি’ উপাধি। তাঁর কবিতা কেবল সাহিত্যই ছিল না, ছিল অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ উচ্চারণ।
তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'নোনা জলের বাসিন্দা', 'স্বৈরিণী স্বদেশ', 'কালো জোছনার এক চুমুক' এবং 'ভিটেমাটি স্বরগ্রাম'। এই গ্রন্থগুলো বাংলা কাব্যসাহিত্যে তাঁকে এক স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।
জন্মদিনের এই শুভক্ষণে, দৃঢ় আত্মপ্রত্যয় ও আপোষহীন চেতনার কবি নাজমুল হক নজীরকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। বাংলা কবিতায় তাঁর মানবতাবাদী দর্শন ও সৃষ্টিশীলতার যে স্বাক্ষর তিনি রেখে গেছেন, তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর স্বপ্ন ও দ্রোহের বাণী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ধ্বনিত হবে এই বিশ্বাস অমূলক নয়।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
বান্দরবান | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
বরিশাল | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুর | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
পিরোজপুর | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
মাগুরা | ২৪ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।