টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক শর্মার ‘শূন্য’র হ্যাটট্রিক
মাঠে নামলে যাঁর ব্যাটে আগ্নেয়গিরি ছোটার কথা, যাঁর বিস্ফোরক ব্যাটিং দেখে বোলারদের হাঁটু কাঁপার কথা—সেই অভিষেক শর্মা এখন নিজেকেই হারিয়ে খুঁজছেন। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অভিষেক শর্মার নামের পাশে এখন জ্বলজ্বল করছে তিনটি ‘০’। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটারের জন্য এমন পরিসংখ্যান কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং চরম বিব্রতকরও।
গতকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। ইনিংসের তৃতীয় বলেই ডাচ স্পিনার আরিয়ান দত্তকে পুল করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অভিষেক। আর তাতেই চলতি বিশ্বকাপে তৃতীয়বারের মতো শূন্য রানে আউট হওয়ার লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখালেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
বাঁহাতি ব্যাটারদের মধ্যে লজ্জার তালিকায় অভিষেক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাঁহাতি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ‘ডাক’ বা শূন্য রানে আউট হওয়ার তালিকায় অভিষেক এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে। তিনবার করে শূন্য রানে আউট হয়ে এই তালিকায় তাঁর সঙ্গী হয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, মোস্তাফিজুর রহমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের সৌম্য সরকার ও শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়া; দুজনেই বিশ্বকাপে চারবার করে শূন্য রানে আউট হয়েছেন।
ভারতীয়দের মধ্যে শীর্ষে অভিষেক ও নেহরা
ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশিবার শূন্য রানে ফেরার রেকর্ডে আশিষ নেহরার পাশে বসেছেন অভিষেক শর্মা। এমনকি বিরাট কোহলির মতো কিংবদন্তিরও বিশ্বকাপে দুটি ডাক রয়েছে, যা এসেছিল গত ২০২৪ বিশ্বকাপে। তবে কোহলি সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছিলেন ফাইনালের ম্যাচসেরা হয়ে এবং দলকে ট্রফি জিতিয়ে। অন্যদিকে, বিশ্ব ক্রিকেটে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫টি করে ডাক মারার রেকর্ড তিলকরত্নে দিলশান ও শহীদ আফ্রিদির।
পারফরম্যান্স ও গাভাস্কারের বিশ্লেষণ
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে অভিষেক এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটিতে মাঠে নেমেছেন। নামিবিয়া ম্যাচে একাদশে না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনি ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু এই তিন ম্যাচে সব মিলিয়ে মাত্র ৮ বল খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মারেন ‘গোল্ডেন ডাক’, আর পাকিস্তানের বিপক্ষে টিকতে পারেন মাত্র ৪ বল।
অভিষেকের এই ফর্মহীনতা নিয়ে কথা বলেছেন কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার। ‘স্টার স্পোর্টস’-এ তিনি বলেন, “অভিষেক সম্ভবত নিজের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে ফেলছে। সে দুর্দান্ত একজন ক্রিকেটার, কিন্তু টি-টোয়েন্টির এক নম্বর ব্যাটার হওয়ার তকমাটা হয়তো তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলছে। প্রথম ম্যাচটা ভালো হলে চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত।”
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
ভারত ইতোমধ্যে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে তাদের লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। জুলাই ২০২৪-এ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হওয়া এই তরুণ তুর্কির জন্য সুপার এইট হতে পারে নিজেকে ফিরে পাওয়ার শেষ সুযোগ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের তানজিদ হাসান তামিমও এক বিশ্বকাপে তিনটি শূন্য করার নজির গড়েছিলেন ২০২৪ আসরে। একই আসরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের শেষ ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মেরেছিলেন সাকিব আল হাসান। এখন দেখার বিষয়, সুপার এইটের কঠিন লড়াইয়ে অভিষেক শর্মা তাঁর হারানো ফর্ম ফিরে পান কি না।
এক নজরে: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাঁহাতি ব্যাটারদের সর্বোচ্চ শূন্যের রেকর্ড
| ব্যাটারের নাম | দেশ | শূন্যের সংখ্যা |
| সৌম্য সরকার | বাংলাদেশ | ৪ |
| সনাথ জয়াসুরিয়া | শ্রীলঙ্কা | ৪ |
| অভিষেক শর্মা | ভারত | ৩ |
| সাকিব আল হাসান | বাংলাদেশ | ৩ |
| তানজিদ হাসান তামিম | বাংলাদেশ | ৩ |
| মোস্তাফিজুর রহমান | বাংলাদেশ | ৩ |
| কুইন্টন ডি কক | দক্ষিণ আফ্রিকা | ৩ |
What's Your Reaction?
খেলা ডেস্কঃ