আত্রাইয়ে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত প্রতিটি এলাকা
ঝড়ের দিনে মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ,পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের 'মামার বাড়ি কবিতার পংক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কিছু দিন। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এই মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ। উত্তর জনপদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার প্রতিটি এলাকার আম গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে উকি দিচ্ছে আমের মুকুল। শীতের শেষে আমের মুকুল জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা। বর্তমানে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত উপজেলার প্রতিটি এলাকা।
আত্রাই উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, প্রাথমিকভাবে এবছর ব্যক্তি উদ্যোগে উপজেলায় প্রায় ১২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আম বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। বাগানে আমরুপালি, ফজলি, খিড়সা, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, রাজভোগ সহ বিভিন্ন জাতের আমের বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও ছোট ছোট পরিত্যক্ত এবং বাড়ির আশপাশের জায়গাগুলোতে অনেক গাছ রয়েছে। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু গাছে মুকুল আসতে শুরুও করেছে।
ফাল্গুন মাসের ১ম সপ্তাহ নাগাদ মুকুলে ছেঁয়ে যাবে প্রতিটি আম গাছ। এ উপজেলার উৎপাদিত আম এলাকার চাহিদা পূরণের পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলার দমদমা গ্রামের সফল আমচাষি মো.জুয়েল বলেন, পুরোপুরিভাবে এখনো সব গাছে মুকুল আসেনি। কয়েক দিনের মধ্যেই সব গাছেই মুকুল আসবে। আমি এই আম চাষ ও বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, ইতোমধ্যে আমচাষিদের আম গাছে মুকুল আসার আগে এবং আমের গুটি হওয়ার পর নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জৈব বালাইনাশক ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে আমসহ অন্যান্য ফল চাষে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে আমের ফলন ভালো হবে আশা করছেন তিনি।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ