নওগাঁয় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ৩২৪ জন
নওগাঁ পৌরসভায় মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে পৌরবাসী। বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস—সব জায়গায়ই মশার আক্রমণে অতিষ্ঠ মানুষ। মশার কয়েল, ধোঁয়া বা স্প্রে কোনোটিই তেমন কার্যকর না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এতে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগও।
সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছরে নওগাঁয় মোট ৩২৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে ১১৬ জন, অক্টোবরে ১২০ জন এবং ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত আরও ৫৯ জন আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম শ্রেণির নওগাঁ পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মানুষের বসবাস।
পৌর এলাকায় যত্রতত্র ময়লা–আবর্জনার স্তূপ, ড্রেনে ঢাকনা না থাকা এবং নিয়মিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার অভাবকে মশা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। অনেক ড্রেনে ময়লা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়, আর সেখানেই জন্ম নিচ্ছে মশা ও মাছি। পৌরকর বাড়লেও সেবার মান উন্নত না হওয়া এবং মশা নিধনে প্রশাসনিক এলাকাগুলোতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, দিনের বেলাতেও বাসাবাড়িতে কয়েল জ্বালাতে হচ্ছে। সন্ধ্যার আগে দরজা–জানালা বন্ধ করেও রেহাই মিলছে না। মশার কামড়ে শরীর ফুলে যন্ত্রণা হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। ছাত্র–ছাত্রীরাও ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না।
নওগাঁ পৌরসভার প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, মশক নিধনের জন্য পৌরসভার কাছে তিনটি ফগার মেশিন ও তিনটি হ্যান্ড স্প্রে রয়েছে। তবে গত দুই বছরে এ খাতে কোনো সরকারি বরাদ্দ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব আয় থেকে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ফগারের চেয়ে হ্যান্ড স্প্রে মেশিনে বেশি গুরুত্ব দিয়ে লার্ভা ধ্বংসের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি মহল্লায় পর্যায়ক্রমে মশক নিধন কার্যক্রম চলমান।
মশার ক্রমবর্ধমান উপদ্রবে নওগাঁ পৌরবাসীর জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর ও বিস্তৃত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ