মধুখালীতে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপির বিশাল জনসভা
ফরিদপুরের মধুখালী ঈদগাহ মাঠে বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল জনসভা। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, “ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে আসনটি উপহার দিতে চাই।”
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত পরিবার হলো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবার। শত প্রতিকূলতা ও নির্যাতন-নিপীড়নের মধ্যেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দলকে আগলে রেখেছেন। আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিএনপি আজ আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী।
খন্দকার নাসিরুল ইসলাম আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়িত হলে দেশে বৈষম্য কমবে, প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায় ও সমতা। বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের সময়ও আপনাদের পাশ ছাড়িনি। দল আমাকে সুযোগ দিলে তিন উপজেলার নির্যাতিত পরিবারগুলোর জন্য সর্বপ্রথম কাজ শুরু করবো। ঘরে ঘরে যান, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করুন, ধানের শীষকে বিজয়ী করুন।”
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—মধুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহবুদ্দিন আহমেদ সতেজ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম মানিক, সহসভাপতি গোলাম মোস্তফা বাকি, সাবেক সভাপতি রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান, পৌর বিএনপির সভাপতি হায়দার আলী মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন বিশ্বাস, ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরীজ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান।
সমাবেশে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত নজরে পড়ে। গাজনা ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের ৮৮ বছর বয়সী কৃষক আবু সাঈদ ওরফে বাগানকে ধানের শীষ আকৃতির টোপর পরে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। তিনি জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে কৃষক দলের হয়ে কাজ করে আসছেন।
এর আগে দুপুর ৩টা থেকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা থেকে হাজারো নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। প্রায় ১০ সহস্রাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ঈদগাহ মাঠ পরিণত হয় এক বিশাল জনসমুদ্রে।
What's Your Reaction?
পার্থ রায়, মধুখালী প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ