চরভদ্রাসনে ৬ আড়াআড়ি বাঁধ ও ২ ভেসাল অপসারণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় পদ্মা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নির্মিত আড়াআড়ি বাঁধ ও ভেসাল উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলা এ অভিযানে ৬টি আড়াআড়ি বাঁধ ও ২টি ভেসাল অপসারণের পাশাপাশি ১০টি চায়না দুয়ারি ও ১০ কেজি মাছ জব্দ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বেশ কিছুদিন ধরে পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ স্থাপন করে অবৈধভাবে মাছ শিকার করে আসছিল। এ ঘটনায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, মাছের প্রজনন এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুনের নির্দেশনায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লবের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সহযোগিতায় ছিল চরভদ্রাসন থানার চৌকস পুলিশ টিম এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুটি প্রভাবশালী মহলসহ কয়েকটি জেলে গোষ্ঠী নদীতে এসব বাঁধ নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছে। এতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ আয় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযানে পদ্মা নদী থেকে অপসারণ করা হয় ৬টি আড়াআড়ি বাঁধ ও ২টি ভেসাল। এর মধ্যে একটি বাঁধের প্রস্থ ছিল প্রায় ১ কিলোমিটার এবং অন্য পাঁচটি ছিল ৫০০ মিটার করে—মোট প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার এলাকা পুনরুদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা ১০টি চায়না দুয়ারি ও নিষিদ্ধ জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। উদ্ধার করা ১০ কেজি মাছ বাদুল্লা মাতুব্বরের ডাঙ্গী মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হোসেন বিপ্লব বলেন, “পদ্মা নদীর মৎস্য সম্পদ ও প্রজনন রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাছের নিরাপদ প্রজনন ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
What's Your Reaction?
আসলাম বেপারি, চরভদ্রাসন প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ