সেনাসদস্যদের হাতে বিএনপি নেতা চুন্নু আটক
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় বিএনপি নেতা খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নুকে সেনাবাহিনীর হাতে আটকের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, একটি ‘সাজানো নাটক’ সাজিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই জননেতাকে আটক করা হয়েছে। অবিলম্বে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
বালিয়াকান্দি উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নু এক অবিস্মরণীয় নাম। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১১ সালে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন এবং বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন নিষ্ঠার সাথে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই নেতার ওপর রাজনৈতিক নিপীড়নের খড়গ নেমে আসে। তার বিরুদ্ধে ৪৯টি রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনটি গায়েবি মামলা দিয়ে তাকে এলাকাছাড়া করা হয়। সে সময় পুলিশ ও প্রশাসন বহু চেষ্টা করেও তাকে দমাতে পারেনি। অথচ স্বৈরাচারী সরকারের পতনের এক বছর পর, বর্তমান সময়ে তাকে আটকের ঘটনাকে ‘অপরাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বালিয়াকান্দিতে ধানের শীষ প্রতীককে দুর্বল করার হীন উদ্দেশ্যে এই আটক—এমনটাই মনে করছেন রাজবাড়ী-২ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী হারুনর রশীদ হারুন। তিনি এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নুর মতো একজন ত্যাগী নেতাকে আটক করা দলের জন্য বড় আঘাত। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
এদিকে চুন্নু চেয়ারম্যানের আটকের খবরে বালিয়াকান্দির সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের দাবি, যিনি সবসময় অন্যের বিপদে নিঃস্বার্থভাবে ছুটে যেতেন, আজ তাকেই ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হলো। স্থানীয় জনতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “অবিলম্বে খোন্দকার মশিউল আজম চুন্নুকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এই অপরাজনীতি বন্ধ না হলে বালিয়াকান্দির ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে এবং দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
What's Your Reaction?
আজমল হোসেন, বালিয়াকান্দি প্রতিনিধি, রাজবাড়ীঃ