ঢাকসু'র ভিপি হিসেবে নয়, আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে এসেছি
ঢাকসু'র ভিপি হিসেবে নয়, আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে আপনাদের সামনে এসেছি, আমি আপনাদের ছোট ভাই হিসেবে আপনাদের সামনে এসেছি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) খাগড়াছড়ি উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন ঢাকসু'র ভি পি আবু সাদিক কায়েম।
বিকেল ৪ টার দিকে ঢাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয় খাগড়াছড়ি উন্নয়ন ফোরাম'র সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল মোমেন'র সভাপতিত্বে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজয় একাত্তর হল সংসদের ভিপি হাসান আল বান্না এবং খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি উন্নয়ন ফোরাম, খাগড়াছড়ি স্টুডেন্টস ফোরাম, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, মাটিরাঙ্গা স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয় ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং তার সফর সঙ্গীদের।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিতে গিয়ে ঢাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে, ছোট ভাই হিসেবে আপনাদের সামনে এসেছি। আমি ঢাকসুর ভিপি হিসেবে আপনাদের সামনে আসিনি। আপনাদের আদর-ভালোবাসায় আর স্নেহের মধ্য দিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি। এই পথ-ঘাটে, এই রাস্তা দিয়েই আমি চলাফেরা করেছি। এখানকার বিভিন্ন জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষের মাঝে, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, বড়ুয়া, হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে চলাফেরা করেই বেড়ে উঠেছি। এখান থেকেই শিখেছি সব ধর্ম-বর্ণের, শ্রেণি -পেশার মানুষের সাথে কিভাবে চলতে হয়, কিভাবে একটি ইনক্লুসিভ সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণ করতে হয়। এখানকার রাস্তা-ঘাট এবং মানুষের ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবোনা।
ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ হবে জুলাই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ। নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ হবে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ হবে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ হবে টেন্ডারবাজমুক্ত বাংলাদেশ। নতুন বাংলাদেশে তারাই রাজনীতি করবে, যারা সবাইকে ধারণ করতে পারবে। যারা হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ সবাইকে নিয়ে পথ চলতে পারবে, আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে তারাই। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানে সৎ ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে।
ঢাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলা অপার সম্ভাবনাময় জেলা। আয়তনে পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের এক দশমাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পদ ও প্রাচুর্যে ভরা। এখানকার সম্পদ দিয়েই দশটি উন্নত বাংলাদেশ গড়া যাবে। তার জন্য দরকার উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব এবং ইনক্লুসিভ সমাজ ব্যবস্থা। খাগড়াছড়ি জেলাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ যারা নেবে এমন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য জেলাবাসীর প্রতি আহবান জানান তিনি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল মান্নান, আদর্শ শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন, উন্নয়ন ফোরামের সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমান, জেলা ইসলামি আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা কাউছার আল আজিজী, প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ ভট্টাচার্য, সাদিক কায়েমের বাবা আবুল কাশেম সওদাগর প্রমুখ।
What's Your Reaction?
মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ, জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়িঃ