পত্তন ইউনিয়নে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী কালি গাছ তলার মেলা উৎসব উদযাপিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী কালি গাছ তলার মেলা উৎসব এখন পত্তন বাজারে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল থেকে সারাদিনব্যাপী এ মেলা উৎসব অনুষ্ঠিত হয় পত্তন বাজারের পশ্চিম পাশে নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক কালি গাছ তলার প্রাঙ্গণে একটি পাঁঠা বলির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে পত্তন বাজারে সারাদিনব্যাপী ঐতিহাসিক মেলা উৎসব উদযাপিত হয়। যা প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় মেলা শুরু হয়।
পত্তন মেলা উৎসব কমিটির আয়োজনে প্রথমে পাঠাবলি প্রদান ও বিভিন্ন মান্নত সম্পন্ন করা হয়। এরপর সারাদিনজুড়ে পত্তন বাজার প্রাঙ্গণে মেলা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
পত্তন মেলা উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সাহা এবং পত্তন দুর্গা পূজা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন কর জানান, “আমাদের এই মেলা উৎসবটি প্রায় শত বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন। এটি আমাদের বাপ-দাদার স্মৃতিবাহী একটি ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, যা আমরা প্রতি বছর নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছি।”
তারা আরও জানান, মেলাকে কেন্দ্র করে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো দর্শনার্থী এখানে সমবেত হন। মেলায় শিশুদের খেলনা, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, বিভিন্ন খাবারের স্টলসহ নানা ধরনের দোকান বসে। দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটান।
মেলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও পরিদর্শনে আসেন। এ সময় পত্তন ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ জনি সরকার বলেন, “এই মেলাটি আমাদের এলাকায় প্রায় তিন শত বছরেরও বেশি পুরনো একটি ঐতিহ্য। পূর্বে এটি নদীর পাড়ের কালি গাছ তলায় অনুষ্ঠিত হলেও গত দুই বছর আগে কিছু জটিলতার কারণে বর্তমানে পত্তন বাজার এলাকায় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। তবুও মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ, যা এখনো আগের মতোই রয়েছে।”
মেলা পরিদর্শনে আসা দর্শনার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, এখানে এসে তারা খুবই আনন্দিত। পরিবার ও শিশুদের নিয়ে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী মেলা উপভোগ করতে পেরে তারা খুশি এবং বিভিন্ন পণ্য ও খেলনা কিনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিশেষে পত্তন মেলা উৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সাহা বলেন, “আমরা প্রতিবছরই এই ঐতিহ্যবাহী মেলা আয়োজন করবো। সকলের সহযোগিতায় যেন মেলাটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। আশা করি আগামীতেও এই মেলা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখবে।"
What's Your Reaction?
মোঃ শামীম মিয়া , বিজয়নগর প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়ীয়াঃ