বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা না করতে ‘চাপ’, মুখ খুললেন তাসনূভা জাবিন
পদত্যাগের পর থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—কারও সমালোচনা না করে চুপ থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) নেত্রী তাসনূভা জাবিন। সোমবার (আজ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি টেলিভিশন টকশোর ভিডিও শেয়ার করে তিনি এ অভিযোগের কথা জানান।
শেয়ার করা ভিডিওর ক্যাপশনে তাসনূভা জাবিন লেখেন, ‘পদত্যাগের পর থেকে আমাকে সবাই সাবধান করছে বিএনপি-জামায়াত কারো সমালোচনা না করতে, চুপচাপ থাকতে এবং বেশি বিপ্লবী না হতে। কিন্তু আল্লাহ ছাড়া আমাকে কেউ থামাতে পারবে বলে মনে হয় না।’
কথার সঙ্গে কাজের অমিল
ফেসবুকে শেয়ার করা ভিডিওতে তাসনূভাকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের ফারাক নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ‘আমার দুঃখের জায়গা হলো, যে রূপরেখা বা প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছিল, সেটিকে বাস্তবায়নের রূপ দেওয়া হলো না। উল্টো সেগুলোকে একধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দেওয়া হলো যে, আসলে সেগুলো ফাঁকাবুলি ছিল কি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন আপনার মুখের কথা এবং কাজের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকবে, তখন আপনি নিজেকে পুরোনোদের চেয়ে আলাদা করতে পারবেন না।’
নারী নেতৃত্ব ও রুমিন ফারহানা প্রসঙ্গ
বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানার বিষয়টিকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তাসনূভা বলেন, ‘আমি জানি না রুমিন আপার বিষয়ে দলীয়ভাবে কী সমালোচনা বা আলোচনা রয়েছে। কিন্তু ঠিক বিশেষ একটি দিনে বা শোকের মুহূর্তেই কেন তাঁকে বহিষ্কার বা কোণঠাসা করতে হবে? পর্দার আড়ালে তাঁর যতই সমালোচনা থাকুক, পর্দার সামনে তিনি কিন্তু বিএনপিকেই প্রতিনিধিত্ব (রিপ্রেজেন্ট) করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পর যেসব নারী রাজনীতিতে এসেছেন, তাঁদের দলের চেয়ে ব্যক্তিগত পরিচিতিই বড় হয়ে উঠেছে বলে অপপ্রচার চালানো হয়। যেমন—আমি পদত্যাগ করার পর সবচেয়ে বেশি শুনেছি যে, আমি একটি ব্যানার ব্যবহার করে পরিচিতি পেয়েছি এবং এরপর স্বার্থপরের মতো সরে এসেছি। অথচ আমরা গত ৯ মাস এই ব্যানার নিয়েই মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। আমি কিন্তু তখনো এনসিপির কথাই বলেছি, ব্যক্তিগত তাসনূভার কথা বলিনি।’
গণ-অভ্যুত্থান থেকে নারীদের মাইনাস করার অভিযোগ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে সাবেক এই এনসিপি নেত্রী বলেন, ‘১৮ জুলাই রোকেয়া হলের ছাত্রীদের বেরিয়ে আসাটা ছিল আন্দোলনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। সবাই ধরে নিয়েছিল, নারীরা নামার পরেই গণ-অভ্যুত্থান সফল হবে। অথচ বিজয়ের পর সেখান থেকে নারীদের মাইনাস করতে করতে এখন রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে।’
মনোনয়ন ও নারী ভোটারদের অবমূল্যায়ন
আসন্ন নির্বাচন ও মনোনয়নে নারীদের অবহেলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তাসনূভা বলেন, ‘বড় রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে বাজারের দর কষাকষির মতো আচরণ করছে। তারা ৫ শতাংশ মনোনয়ন দেওয়ার কথা বললেও, সব দল মিলে নারী প্রার্থী দিয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এর মধ্যে রুমিন ফারহানার মতো অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তাঁরা দলীয় পরিচয়ের বাইরে নিজেদের যোগ্যতায় পরিচিত।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫২ শতাংশ ভোটার নারী, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি। অথচ রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো নারী পলিসি নেই, এমনকি নারীদের যথাযথ মনোনয়নও দেওয়া হয়নি। সবাই ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘অল ম্যান শো’ বা পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই একজোট হয়েছে। আমরা নতুন কিছুর কথা বললেও তা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ গণ-অভ্যুত্থানে পরিচিত পাওয়া নারী মুখগুলো সেই পুরোনো সিস্টেমের কাছেই বলি হয়েছে।’
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ