শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
Jan 12, 2026 - 13:11
 0  3
শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার এজাহারে উল্লেখিত তথাকথিত ‘আহতদের’ কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এবং তথ্যের সত্যতা না মেলায় পিবিআই আদালতে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সূত্রে জানা গেছে, পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ গত ৫ নভেম্বর আদালতে এই প্রতিবেদন জমা দেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অব্যাহতির সুপারিশপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, মোহাম্মদ এ আরাফাত, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ, শামীম ওসমান, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ ১১৩ জন।

**মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্তের ফলাফল**  
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন শরিফুল ইসলাম ওরফে শরীফ নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ভুক্তভোগী সাহেদ আলীর ভাই হিসেবে দাবি করেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৪ আগস্ট ধানমন্ডি ২৭-এর মীনা বাজারের সামনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় সাহেদ আলীসহ ৯-১০ জন আহত হন।

থানা পুলিশের পর মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই। তদন্তকালে কর্মকর্তা শাহজাহান ভূঞাঁ সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং ঘটনাস্থলের আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিঠি পাঠিয়ে আহতদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য চান। কিন্তু কোনো হাসপাতালেই সাহেদ আলী বা অন্য কোনো আহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী শরীফের দেওয়া ঠিকানাতেও তাকে পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখা যায়, বাদীর স্থায়ী ঠিকানা লক্ষ্মীপুর সদরের মান্দারী এলাকায়। সেখানে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয়রা তাকে চিনতে পারেননি। পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বাদীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার সাথে দেখা করেন। তবে বারবার সময় নিয়েও তিনি কোনো ভুক্তভোগীকে হাজির করতে পারেননি এবং চিকিৎসার কোনো নথিপত্র বা প্রমাণ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন।

সার্বিক তদন্ত শেষে পিবিআই জানায়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘তথ্যগত ভুল’ দিয়ে এই মামলাটি সাজানো হয়েছিল এবং বাস্তবে আহত ব্যক্তিদের কোনো অস্তিত্ব বা দালিলিক প্রমাণ মেলেনি। এরই প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনাসহ সব আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow