এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
বান্দরবানের থানচি উপজেলার রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনির বিরুদ্ধে তথ্য অধিকার আইন তোয়াক্কা না করা ও আধিপত্য বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে সেবাগ্রহীতা ও সাংবাদিকদের তথ্য না দিয়ে উল্টো হুমকি-ধমকি ও হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় নাগরিক ও সাংবাদিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি উপকারভোগীদের তালিকা, এলজিইএসপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিপি, বার্ষিক বাজেট, ভিজিএফ, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য চাইলেই চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বালাই না রেখে তিনি ক্ষমতার দাপট প্রদর্শন করছেন।
সম্প্রতি ‘দৈনিক বর্তমান বাংলা’র প্রতিনিধি উশৈনু মারমা তথ্য অধিকার আইনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করেও তথ্য পেতে ব্যর্থ হন। তিনি বলেন, “আমি নির্ধারিত ফরমে আবেদন নিয়ে গেলে ইউপি সচিব উশৈমং মারমা তা গ্রহণ করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। সাংবাদিক হিসেবে তথ্য সংগ্রহ করা আমার পেশাগত দায়িত্ব এবং নাগরিক হিসেবে এটি আমার অধিকার। এখানে আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে।”
উশৈনু মারমা আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি তাঁকে দম্ভোক্তি করে বলেন, “তোমার যা ইচ্ছা করো, আমার একটা লোমও ছিঁড়তে পারবে না। উপজেলার সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা প্রতিনিধিরা আমার কথায় চলে। ২০১৬ সাল থেকে সবাইকে আমি আমার নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।”
ইউপি সচিব উশৈমং মারমা এ বিষয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমার হাত-পা বাঁধা। যোগদানের দিনই চেয়ারম্যান আমাকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিষদের কোনো কাগজপত্র সাংবাদিক, সাধারণ জনগণ বা গোয়েন্দা সংস্থার হাতে পৌঁছালে এবং তাতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ পেলে তার দায়ভার আমাকেই নিতে হবে। তাই বাধ্য হয়েই আমি তাঁর নির্দেশ মেনে চলছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেমাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান মুইশৈথুই মারমা রনি এলাকাতেও অনিয়মিত। দুর্গম এই ইউনিয়নে তিনি মাসে মাত্র একদিন অফিস করেন। মূলত বান্দরবান জেলা শহর ও থানচি উপজেলা সদরের ‘তহটং’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে বসেই তিনি প্রায় ১২ হাজার মানুষের এই ইউনিয়ন পরিচালনা করেন। উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারের নাম, কাজের অগ্রগতি বা বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে তাঁকে মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও রেমাক্রী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুইশৈথুই মারমা রনির বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে, ভুক্তভোগীরা জানান, তারা এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
ক্যাম্পাস | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয় | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
রাজধানী | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
ফরিদপুর | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
নওগাঁ | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।