৬৬ ভাগ প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন ‘রাতের ভোটের’ সংসদের সংরক্ষিত এমপি রুমিন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ২৯ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি, যা যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমার সময় দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি নিজের আয়, ব্যয় এবং সম্পদের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন।
অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, রুমিন ফারহানার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নগদ ও ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। এছাড়া তার কাছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। অর্জনকালীন সময় থেকে এখন পর্যন্ত এই সম্পদের বাজারমূল্য একই (৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা) বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থাবর সম্পত্তির বিবরণে দেখা যায়, রাজধানীর ধানমণ্ডির ল্যাবরেটরি রোডে মায়ের কাছ থেকে হেবানামায় পাওয়া একটি সম্পত্তি রয়েছে তার। এছাড়া বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে লালমাটিয়ায় পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন, যার জন্য কোনো আর্থিক মূল্য পরিশোধ করতে হয়নি। তবে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ২৫৮ দশমিক ৮৮৪ বর্গফুটের একটি বাণিজ্যিক স্পেস (অফিস) রয়েছে তার। সব মিলিয়ে তার অর্জনকালীন ও বর্তমান সম্পদের আনুমানিক মূল্য ৬৫ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, নিজের নামে কোনো যানবাহন নেই এবং শেয়ার বাজার বা বন্ডে তার কোনো বিনিয়োগ নেই বলে হলফনামায় জানানো হয়েছে।
আয় ও পেশা
পেশায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুমিন ফারহানা ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯৭ লাখ ১৪ হাজার ১৭৩ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন—বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া বাবদ বছরে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, আইনি পরামর্শক হিসেবে ৬ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৫ হাজার ৫৫২ টাকা। কৃষি খাত থেকে তার কোনো আয় নেই এবং কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার ঋণও নেই।
মামলা নিষ্পত্তি
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে তিনটি এবং ২০২৩ সালে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। ২০২৫ সালে এই চারটি মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয় ও অর্থায়ন
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যয়ের জন্য রুমিন ফারহানা ২৫ লাখ টাকার বাজেট নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে নিজের আয় থেকে ২০ লাখ টাকা এবং প্রবাসী খালাতো ভাই গালিব মেহেদীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা সহায়তা হিসেবে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অতীতের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন
হলফনামায় রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (যা 'রাতের ভোট' হিসেবে পরিচিত) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৬৬.২৫ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছেন। এর মধ্যে রাস্তাঘাট উন্নয়নে ৭০ শতাংশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ৬৫ শতাংশ, মাদক নিয়ন্ত্রণে ৮০ শতাংশ এবং বেকারত্ব দূরীকরণে ৫০ শতাংশ সফলতা অর্জনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ