যানজটের নগরীতে পরিণত জলঢাকা
নীলফামারীর জলঢাকা পৌরশহর এখন যেন যানজটের অপর নাম। প্রতিদিনের অসহনীয় যানজটে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালেও তা নিরসনে কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের সংযোগস্থল হওয়ায় প্রতিনিয়ত শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও যানবাহন এ পথে চলাচল করে। তবে অব্যবস্থাপনা ও সরু সড়কের কারণে সৃষ্ট যানজটে স্থবির হয়ে পড়ছে এখানকার জনজীবন।
জলঢাকা পৌরশহর উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। শহরের প্রধান দুটি সড়ক—ডোমার-ডিমলা-জলঢাকা এবং ডালিয়া-জলঢাকা সড়ক ব্যবহার করেই পাটগ্রাম-বুড়িমারী, চিলাহাটি ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের যানবাহন যাতায়াত করে। এছাড়া পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ডালিয়া, ডোমার ও ডিমলা থেকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতকারী শত শত যানবাহনের একমাত্র ভরসা এই রুট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের প্রধান সড়কগুলোর প্রশস্ততা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। তার ওপর সড়কের দুপাশ দখল করে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকে রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা। ফুটপাত না থাকায় হকাররা সড়কের ওপরই শাক-সবজি ও ফলমূলের পসরা সাজিয়ে বসছেন। ভ্যান, অটোরিকশা বা সিএনজির জন্য নির্ধারিত কোনো পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় চালকরাও এলোমেলোভাবে গাড়ি রাখছেন। ফলে দিনভর যানজট লেগেই থাকে।
বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যানজট প্রকট আকার ধারণ করে। সন্ধ্যার পর দূরপাল্লার ভারী ট্রাক ও বাসের চাপে প্রধান সড়কগুলো দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এদিকে জনবল সংকটের কারণে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাফিক পুলিশকেও প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
পৌরশহরের ভুক্তভোগী বাসিন্দা আজিজার রহমানসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, শহরের প্রধান সড়ক দুটি বর্তমানে দুই লেনের, যা বর্তমান ট্রাফিক চাপের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এই সড়কগুলোকে চার লেনে উন্নীত করা এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে যানজটমুক্ত শহর গড়ার জোর দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, যানজট নিরসন ও শহরের উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও বাজার উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া যানবাহনের জন্য সুনির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তারা নিশ্চিত করেন।
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ