এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
শারদীয় দুর্গোৎসবের ঢাকে কাঠি পড়তে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে দেশজুড়ে যখন আনন্দের আবহ, তখন ভিন্ন চিত্র বান্দরবানের রুমা বাজারে। উৎসবের আমেজ থাকলেও ক্রেতার অভাবে এখানকার বাজারগুলো প্রায় জনশূন্য, ব্যবসায়ীদের মুখে হতাশার ছাপ।
শুক্রবার বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাপড়ের দোকানগুলোতে নেই ক্রেতাদের চিরচেনা ভিড়। অলস সময় পার করছেন দোকান মালিক ও কর্মচারীরা। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সাধারণ মানুষ কেনাকাটা কমিয়ে দেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
কাপড় ব্যবসায়ী মো. মোর্শেদ ও ওসমান আক্ষেপ করে বলেন, "দুর্গোৎসব চলে এলো, কিন্তু দোকানে ক্রেতা নেই। বেচাকেনা না হলে আমাদের চলবে কী করে?"
একই সুরে হতাশা প্রকাশ করেন ‘মা স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী মিটু দাশ। তিনি জানান, শাড়ি, থামি বা লুঙ্গির মতো पारंपरिक পোশাকেরও কোনো ক্রেতা নেই। ক্রমাগত বাড়তে থাকা ঋণে তিনি দিশেহারা।
ব্যবসায়ী সাধন বড়ুয়ার কণ্ঠে ঝরল তীব্র হতাশা। তিনি বলেন, "গত বছর এই সময়ে দোকানে এত ভিড় ছিল যে সামাল দিতে আমার স্ত্রী আর ভাগিনাকেও আসতে হয়েছিল। আর এখন আমি একাই বসে আছি, কোনো ক্রেতা নেই। ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা ঋণ হয়ে গেছে।"
কেন এই ক্রেতা সংকট? এর উত্তর মেলে সাধারণ ক্রেতাদের কথায়। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে মানুষ এখন উৎসবের কেনাকাটার চেয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে।
সপ্নারাণী নামের এক গৃহিণী জানান, তার স্বামীর ব্যবসা নেই, তাই সংসারে আয়রোজগারও বন্ধ। নিজের জন্য কিছু না কিনে শুধুমাত্র মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে একটি জামা কিনেছেন তিনি। লেমুঝিরি পাড়ার বাসিন্দা সুভাষ সরকারও জানান, পরিবারের চার সদস্যের মধ্যে তিনি ও তার স্ত্রী নিজেদের জন্য কিছুই কেনেননি। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুধু ছেলেমেয়েদের জন্য সামান্য কেনাকাটা করেছেন।
তবে এই হতাশার মাঝে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেল 'ইত্যাদি স্টোরে'। এর ম্যানেজার খোকন জানান, সকাল ১০টা ও বিকেল ৩টার পর অল্প কিছু ক্রেতার দেখা মিলছে। বিশেষ করে ত্রিশোর্ধ্ব নারীরা জর্জেট, লিলেন ও পপলিন কাপড় কিনছেন।
এদিকে, বেচাকেনায় ভাটা পড়লেও উৎসবের আয়োজনে কমতি নেই। রুমা শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি রাজিব দাশ জানান, শনিবার থেকে তিন দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুর্গোৎসবের পরপরই আগামী ৬ অক্টোবর মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা বা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গোৎসবে বিক্রি না হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী এখন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সেই উৎসবকে ঘিরে বেচাকেনার আশায় আছেন।
দুটি সম্প্রদায়ের উৎসব এবং সরকারি ছুটি মিলিয়ে এ সময়ে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয় ট্যুরিস্ট গাইডরা। সেই আশায় বুক বেঁধে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারাও।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ২০ জুন, ২০২৬
জাতীয় | ২০ জুন, ২০২৬
বান্দরবান | ২০ জুন, ২০২৬
নোয়াখালী | ২০ জুন, ২০২৬
মুন্সীগঞ্জ | ২০ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।