চিকিৎসা নিতে পারছেন না আত্মগোপনে থাকা ওবায়দুল কাদের
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বর্তমানে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে কোনো চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে হাসপাতাল থেকে কলকাতার নিউ টাউনের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে লাইফ সাপোর্টসহ যাবতীয় মেডিকেল সুবিধাদিয়ে তাঁকে রাখা হবে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ওবায়দুল কাদের বেশ কিছুদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তিনি প্রায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় দ্রুত তাঁকে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। তবে চিকিৎসায় আশানুরূপ সাড়া না মেলায় তাঁকে বাড়িতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় তিন মাস ওবায়দুল কাদের বারবার বাসা বদল করে দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর গত বছরের নভেম্বরে তিনি দেশত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের জন্য ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে তাঁরা ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবছেন না। তাঁরা যখন দেশে ফিরে স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিবেশ পাবেন, কেবল তখনই ভুল স্বীকার, অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদের ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। প্রভাবশালী এই নেতা নোয়াখালী-৫ আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ