এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
এক সময়ের খরস্রোতা, আজ মৃতপ্রায়—ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের সেই ভুবনেশ্বর নদকে ঘিরেই জেগে উঠেছে জনপদ। পরিবেশ রক্ষায় এক অভিনব উদ্যোগে শুক্রবার (২৩ মে) হাজারো মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে নেমেছে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে। নিছক একটি কর্মসূচি নয়, এটি যেন হয়ে উঠেছে নদী রক্ষায় স্থানীয়দের এক গভীর অঙ্গীকারের প্রতীক।
“নদী বাঁচলে বাঁচবে প্রাণ, পরিবেশ থাকবে অম্লান”—এই শ্লোগান সামনে রেখে অভিযান শুরু হয় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে চরভদ্রাসন সরকারি কলেজ মাঠে শপথ পাঠের মাধ্যমে। এরপর প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে নদীর বিভিন্ন স্পটে চলে পরিচ্ছন্নতার কাজ। অংশ নেন বিডি ক্লিন-এর প্রায় ১২০০ সদস্য এবং স্থানীয় প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী।
এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করে চরভদ্রাসন উপজেলা প্রশাসন, ‘সেভ দ্য ভুবনেশ্বর রিভার কমিটি’ এবং বিডি ক্লিন। শুধু স্থানীয়ই নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও স্বেচ্ছাসেবীরা এসে যোগ দেন এই পরিবেশ রক্ষায়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা খাতুন, থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রজিউল্লাহ খান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল নিজে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবীদের উৎসাহ দেন। তিনি বলেন, “আমরা যদি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসি, এই নদী খনন করে দুই পাড়ে গড়ে তুলব আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র।”
ভুবনেশ্বর নদ, যা স্থানীয়ভাবে লোহারটেক নদী নামেও পরিচিত, একসময় চরভদ্রাসনের প্রাণ ছিল। তবে নিয়মিত খননের অভাব, সুইসগেট বন্ধ থাকা এবং বাজার এলাকার আবর্জনা ফেলার ফলে নদীটি আজ মৃতপ্রায়।
১৯৩২ সালের পিএস রেকর্ড অনুযায়ী এটি একসময় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ছিল, যা পরবর্তীতে নদীভাঙনে জলধারায় রূপ নেয়। বাংলা ১৩৬০ সাল থেকে স্থানীয়রা একে ‘লোহারটেক নদী’ নামে ডাকেন, যা বর্তমানে ‘লোহারটেক কোল’ নামেও পরিচিত।
‘সেভ দ্য ভুবনেশ্বর রিভার কমিটি’র আহ্বায়ক মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “নদীটি এখনো বাঁচানো সম্ভব। প্রশাসনের সহায়তা এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের পথ দেখাচ্ছে।”
কমিটির পক্ষ থেকে চারটি দাবি উত্থাপন করা হয়: নদী থেকে বর্জ্য অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রাচীর নির্মাণ, সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্তকরণ এবং খননের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা।
এই কর্মসূচি শুধু একদিনের অভিযান নয়—এটি ভুবনেশ্বর নদকে পুনরুজ্জীবিত করার আন্দোলন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এমন উদ্যোগ চলমান থাকবে এবং নদীটিকে ঘিরে গড়ে উঠবে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা।
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
নোয়াখালী | ২২ জুলাই, ২০২৬
নোয়াখালী | ২২ জুলাই, ২০২৬
ফেনী | ২২ জুলাই, ২০২৬
নোয়াখালী | ২২ জুলাই, ২০২৬
নোয়াখালী | ২২ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।